কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলকিপার জোসিমার হোসে এভোরা দিয়াস, যিনি ফুটবল বিশ্বে ভোজিনিয়া নামেই পরিচিত। বিশ্বকাপের আসরে স্পেনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র এবং আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ষোলোয় তাঁর বীরত্বপূর্ণ পারফরম্যান্স রাতারাতি তাঁকে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দেয়। সেই ম্যাচে স্পেনের শক্তিশালী আক্রমণভাগকে আটকে দেওয়া ভোজিনিয়ার ইনস্টাগ্রাম অনুসারী সংখ্যা ওই ম্যাচের আগে ছিল মাত্র ৫০ হাজার। কিন্তু সেই সাফল্যের পর তা বেড়ে হয়েছে ২ কোটি ৭৫ লাখ, যা তাঁর নিজ দেশ কেপ ভার্দের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫৫ গুণ। শেষ পর্যন্ত হারলেও ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটির ফুটবল ইতিহাসে জায়গা করে নেয় দলটি। ২ কোটি ৮৪ লাখের খ্যাতিতে ‘অসহায়’ ভোজিনিয়া। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সংখ্যাটা বেড়ে কয়েক মিলিয়ন। অর্থাৎ দেশের জনসংখ্যার ৫৫ গুণেরও বেশি অনুসারী তাঁর। অবশ্য এই খ্যাতির পেছনে ছিল আবেগের গল্পও। কারণ, মাকে বিশ্বকাপের সেই ম্যাচ দেখাতে চেয়েছিলেন গ্যালারিতে বসিয়ে। বিশ্বকাপের পর জীবনটা আরও বদলে যায় ভোজিনিয়ার। গত মৌসুমেও পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগে খেলেছেন ভোজিনিয়া। ভোজিনিয়া অবশ্য এখনই ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশি ভাবতে চান না। তবে নির্দিষ্টসংখ্যক মিনিট খেলতে পারলে আরও এক বছর বাড়ানোর সুযোগ আছে। ভোজিনিয়ার জন্য নিয়ম বদল, ব্যবহার করতে পারবেন ডাকনাম। আর সমন্বয় না থাকলে কখনোই আপনি ভালো করতে পারবেন না।
স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে ভোজিনিয়ার আবেগি কান্না গ্যালারিতে উপস্থিত না থাকতে পারা মায়ের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। এমন দারুণ সাফল্যের পর জুলাই মাসে তিনি দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম সফল ক্লাব চিলির কোলো কোলোতে যোগ দেন। ১৯৯১ সালে কোপা লিবার্তোদোরেস জয়ী এই ক্লাবে হাজারো দর্শকের উপস্থিতিতে তাঁকে সিনেমার নায়কের মতো বরণ করে নেওয়া হয়েছিল। তবে মাঠের বাস্তবতা এখন অনেকটাই ভিন্ন। চলতি বছরের নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত ক্লাবটির হয়ে মাত্র ১৪টি সম্ভাব্য ম্যাচের মধ্যে মাত্র পাঁচটি ম্যাচে তিনি মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছেন। কোলো কোলোতে গিয়ে নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত সম্ভাব্য ১৪ ম্যাচের মাত্র পাঁচটিতে মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছেন।
বর্তমানে কোলো কোলো লিগ শিরোপার দৌড়ে রয়েছে এবং আগামীকাল নুবলেনসের বিপক্ষে ম্যাচেও ভোজিনিয়ার বেঞ্চে থাকার সম্ভাবনাই প্রবল।
নিজের বর্তমান অবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, তিনি লিবার্তোদোরেসে খেলার উদ্দেশ্য নিয়ে এখানে এসেছেন।
তবে আপাতত বর্তমান সপ্তাহ ও দলের সাফল্যের দিকেই তাঁর পূর্ণ মনোযোগ। দলের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সময়, তাই ভবিষ্যতের পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রেখেছেন তিনি। তাঁর বর্তমান চুক্তি ছয় মাসের, যা নির্দিষ্ট সংখ্যক ম্যাচ খেললে আরও এক বছর বাড়তে পারে। তবে ২০২৭ সালেও তিনি এই ক্লাবে থাকবেন কি না, তা নিয়ে চিলির সংবাদমাধ্যমে এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ছেলের জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তটি তাই মা দেখতে পারেননি সামনে বসে।
যে পাঁচটি ম্যাচে তিনি মাঠে নেমেছেন, সেখানে তিনটি গোল হজম করেছে দল। পরিসংখ্যান খুব খারাপ না হলেও কোলো কোলোর কোচ এখনো ১৯ বছর বয়সী চিলিয়ান গোলকিপার গ্যাব্রিয়েল মাওরেইরাকেই প্রথম পছন্দ হিসেবে রাখছেন। এর ফলে ভোজিনিয়াকে বেশ সমালোচনার মুখেও পড়তে হচ্ছে। চিলির কিংবদন্তি গোলকিপার ক্লদিও ব্রাভো তাঁর সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে তিনি বেশ কিছু ভুল করছেন। এমন পরিস্থিতিতে ক্লাব চুক্তি নবায়ন না করলে ডিসেম্বরের শেষে নতুন ক্লাবের সন্ধানে নামতে হতে পারে এই বিশ্বকাপ তারকাকে। কোলো কোলো যদি তাঁর চুক্তি না বাড়ায়, তাহলে ডিসেম্বরের শেষেই হয়তো নতুন ক্লাব খুঁজতে হবে ভোজিনিয়াকে।

