কুয়েতে শিক্ষার্থীদের কাছে ই-সিগারেট বিক্রি: ৫ বাংলাদেশী গ্রেপ্তার

কুয়েতের সাদ আল-আবদুল্লাহ এলাকায় স্কুল শিক্ষার্থী ও অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরদের কাছে অবৈধভাবে ই-সিগারেট এবং বিভিন্ন তামাকজাত পণ্য বিক্রির অভিযোগে ৫ জন বাংলাদেশী নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট। কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা একটি আবাসিক ভবনের ভেতর অননুমোদিত মুদি দোকান বা ‘বাকালা’ পরিচালনা করছিলেন। তারা মূলত টেলিফোন ও হোম ডেলিভারি সেবার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে এসব পণ্য গোপনে সরবরাহ করতেন। (তথ্যসূত্র: কুয়েত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় / Arab Times)।

নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এলাকাটিতে নজরদারি বাড়ায়। এক পর্যায়ে এক শিক্ষার্থীর কাছে ই-সিগারেট হস্তান্তরের সময় হাতেনাতে প্রথম অভিযুক্তকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই আবাসিক ভবনে অভিযান চালিয়ে বাকি চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে ওই বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পণ্য ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে।

জব্দকৃত মালামালের তালিকা

  • ই-সিগারেটের বড় বাক্স: ১৩টি
  • ই-সিগারেটের ছোট বাক্স: ২৩টি
  • তামাকপণ্যের ছোট প্যাকেট: ২১৯টি
  • বিক্রিলব্ধ নগদ অর্থ: ১,৭২২ কুয়েতি দিনার

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ চক্র গঠন করে দায়িত্ব ভাগাভাগির মাধ্যমে অবৈধ ব্যবসা পরিচালনার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁদের এবং জব্দকৃত আলামত আইনানুগ পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য সংশ্লিষ্ট বিচারিক কর্তৃপক্ষের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।

কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তরুণ প্রজন্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অবৈধ বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড বন্ধে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন অভিযান চলমান থাকবে। উপসাগরীয় দেশটিতে লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা বা অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে মাদক ও তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি করা গুরুতর আইন লঙ্ঘন। সামান্য আর্থিক লাভের আশায় প্রবাসীদের এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে না জড়াতে এবং আইন মেনে চলার জন্য বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে। সামান্য আর্থিক প্রলোভনে পড়ে এ জাতীয় আইনি জটিলতায় না জড়াতে এবং প্রবাস জীবনের ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে না ফেলতে প্রবাসীদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানানো হচ্ছে।