
মোঃ ওসমান গনি উপজেলা প্রতিনিধি ধামইরহাট।
নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় চলতি আমন মৌসুমে ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বৃষ্টিপাত হওয়ায় জমিতে পর্যাপ্ত পানি জমেছে, যা আমন চাষে সহায়ক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। রবিবার (৩ আগস্ট) উপজেলার পৌরসভা ও ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, “আমন ধানের রোপণে ব্যস্ত সময় পার করেছেন, এবং কৃষকরা বীজতলা থেকে চারা সংগ্রহ করে জমি প্রস্তুত করে আমন রোপণ করেছেন এবং ধান রোপণ প্রায় শেষের দিকে।”
তবে কৃষকদের অভিযোগ, মাঠে কাজ করতে শ্রমিকরা বেশি টাকা চাচ্ছেন। আমন মৌসুমের শুরুতেই বেড়ে যাচ্ছে ধান চাষের উৎপাদন খরচ। এখন খরচ বাড়লেও চাহিদা অনুযায়ী নেই কৃষকদের ধানের দাম। প্রতি বছর উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাড়ে না উৎপাদিত ধানের দাম। উল্টো কমে যায় ধানের দাম। এ জন্য হতাশা প্রকাশ করেন কৃষকেরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ধামইরহাট উপজেলায় এ বছর ২১হাজার ৮১৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বিগত মৌসুমের চেয়ে বেশি চাষাবাদ হবে, ফলনও বেশি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মারুফ হোসেন জানান, এ বছর আমনের উৎপাদন লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং বীজ, সার ও পরামর্শ প্রদানে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। লাইন করে ধান রোপণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে করে রোগ বালাই কমে যায়। এছাড়াও আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে থেকে সার্বিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টির কারণে মাজরা পোকা বা খোল পোড়া রোগের ঝুঁকি থাকলেও কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের কৃষক মো. ইউসুফ আলী বলেন,”জমি চাষ, সার, কীটনাশক, শ্রমিকদের মজুরি ও সেচের পানিসহ সব কিছুর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।উৎপাদন খরচ অনুযায়ী ধানের দাম কম পাই। জীবন বাঁচার তাগিদে আমরা আমন ধানের চাষ করি।বর্তমানে শ্রমিকদের মজুরি দ্বিগুণ হয়েছে বলে জানান তিনি।” ধামইরহাটে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন সবুজ ধানের সমারোহ, যা অদূর ভবিষ্যতে কৃষকদের মুখে হাসি ফোটাবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।