
দিনাজপুর প্রতিনিধি।
ভেজালের ভিড়ে খাঁটি শব্দটি হারিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।
খাদ্য থেকে শুরু করে নানাবিদ জিনিসপত্রে হরহামেশাই মেশানো হচ্ছে ভেজালদ্রব্য। যার প্রভাব পড়ছে জনস্বাস্থ্যে। এত এত ভেজালের ভিড়ে নিরাপদ খাদ্য খুঁজে বের করা বেশ কষ্টসাধ্য। তবে সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত আখের গুড় তৈরি করে সেই কঠিন কাজটিই করে দেখিয়েছেন দিনাজপুর নবাবগঞ্জ উপজেলার বড় মাগুরা গ্রামের আখ চাষি জাহাঙ্গীর আলম।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার বড় মাগুরা গ্রামের একাধিক আখ চাষিরা নিজ নিজ জমি থেকে এবং ক্রয় করে আখ কেটে পরিষ্কার করে তা মেশিনের সাহায্যে মাড়াই করে রস বের করছেন। মাটির চুলার ওপরে রাখা টিনের তাফালে রস ছেঁকে ঢালছেন গুড় তৈরির কারিগররা। এরপর চুলায় দীর্ঘ সময় জ্বাল দেওয়ার পর বিশেষ প্রক্রিয়ায় ক্রেতাদের সামনে প্রকাশ্যে তৈরি হচ্ছে ভেজালমুক্ত আখের গুড়।
তবে ভেজালমুক্ত গুড় তৈরি করতে গিয়ে লাভের চেয়ে এ বছর লোকসানের আশঙ্কা করছেন চাষিরা।
বড় মাগুরা গ্রামের আখ চাষি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জানান, এ বছর ১০০ শতক জমিতে আখ চাষ করেছি। আখগুলো বর্তমানে পরিপক্ব হওয়ায় তা দিয়ে ভেজালমুক্ত গুড় তৈরি করে আসছি। আখ চাষের পর কৃষি অফিসের লোকজন এসে বিভিন্ন পরামর্শ খোঁজখবর নিয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা আখ চাষীদের পরামর্শ ও আখক্ষেত পরিদর্শন করেন।
তবে আমরা সরকারি সহায়তা পেলে আগামী বছর আখ চাষে উৎসাহিত হব।
চাষি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শ্রমিকদের মজুরি বেশি হওয়ায় উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে ১২০ টাকা দরে প্রতি কেজি গুড় বিক্রি হচ্ছে। তিনি আরো বলেন বাংলাদেশের যেকোন জায়গা থেকে কেউ যদি গুড় নিতে আগ্রহী হয়, আমাকে ফোন করলে আমি গুড় পাঠিয়ে দিবো, আমার ফোন নম্বর-0 1751-719613
একাধিক ক্রেতা জানিয়েছেন, বাজারের গুড়ের চেয়ে এ গুড় ভেজালমুক্ত। আমাদের চোখের সামনেই আখের রস দিয়ে ভেজালমুক্ত গুড় তৈরি করে দিচ্ছেন আখ চাষিরা।
নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মো.জাহিদুল ইসলাম ইলিয়াস বলেন, উপজেলার ২৫ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আখ চাষ করা হয়েছে, যা দিয়ে খাঁটি গুড় তৈরি করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে কৃষি অফিস থেকে যাবতীয় পরামর্শ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। চাষিরা আখের দাম ভালো পেলে আগামীতে আখ চাষ আরও সম্প্রসারণ হবে।