সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন

অবৈধ বিচ দখল ও চাঁদাবাজি ইস্যু টুরিস্ট পুলিশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার: শক্ত প্রতিবাদ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

জামাল উদ্দীন কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি।
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬
  • ৪৬ বার পড়া হয়েছে

জামাল উদ্দীন কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি।

অবৈধ বিচ দখল ও চাঁদাবাজি ইস্যু টুরিস্ট পুলিশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার: শক্ত প্রতিবাদ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে অবৈধ দখল ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে পরিচালিত চলমান অভিযানের প্রেক্ষাপটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে টুরিস্ট পুলিশের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়ন দৃঢ় ভাষায় এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে একে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বলে দাবি করেছে।

টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের রিজিয়ন প্রধান অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ–এর বিরুদ্ধে “পর্যটন সেবার সরঞ্জাম ভাড়া দিয়ে মাসে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য” শীর্ষক যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট নথি, আর্থিক দলিল, নিরপেক্ষ সাক্ষ্য বা দাপ্তরিক প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। সাংবাদিকতার মৌলিক নীতিমালা অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক হলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে তা প্রতিফলিত হয়নি—যা একপাক্ষিকতা ও পেশাগত দায়িত্বহীনতার স্পষ্ট উদাহরণ।
অবৈধ দখলবাজদের স্বার্থে পরিকল্পিত অপপ্রচার?
বিবৃতিতে বলা হয়, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আপেল মাহমুদ কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, চাঁদাবাজি দমন, নিয়মিত টহল জোরদার, হটলাইন কার্যকরকরণ এবং পর্যটকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করছেন। বিশেষ করে বিজ এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পর একটি প্রভাবশালী মহল অসন্তুষ্ট হয়ে ওঠে।

বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, ওই অসন্তুষ্ট গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত কিছু ব্যক্তি নিজেদের অবৈধ স্বার্থ রক্ষায় একটি অংশবিশেষ সাংবাদিককে ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন প্রকাশ করিয়েছে। টুরিস্ট পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চলমান অভিযানে বাধা সৃষ্টি এবং বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করাই ছিল এই অপপ্রচারের মূল উদ্দেশ্য।
অভিযোগ প্রমাণের চ্যালেঞ্জ
সম্প্রতি স্থানীয় দৈনিক সকালের কক্সবাজার-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে টুরিস্ট পুলিশের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়। তবে টুরিস্ট পুলিশ সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের কাছে উত্থাপিত অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, অভিযোগ সত্য হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে তারা সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে; আর মিথ্যা প্রমাণিত হলে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আইনের চোখে বাধা প্রদান অপরাধ
রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ১৮৬ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীর কাজে ইচ্ছাকৃত বাধা দিলে সর্বোচ্চ তিন মাস কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে। বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রে ধারা ৩৫৩ অনুযায়ী দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। ফলে আইন প্রয়োগে বাধা বা বিভ্রান্তি সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের মিশ্র প্রতিক্রিয়া, তবে অভিযানে স্বস্তি
সৈকতসংলগ্ন কয়েকজন ব্যবসায়ী ও বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে বিচের নির্দিষ্ট অংশ দখল ও মাসিক অর্থ আদায় করছিল। এতে সাধারণ ব্যবসায়ী ও পর্যটকরা ভোগান্তিতে পড়ছিলেন। অভিযানের পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

এক হোটেল ব্যবসায়ী বলেন, “অবৈধ দখল আর চাঁদাবাজি চলতে থাকলে পর্যটন শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনিয়ম থাকলে প্রমাণসহ প্রকাশ হোক, কিন্তু চলমান অভিযানে বাধা দিলে ক্ষতি হবে দেশের।”
রাষ্ট্রীয় স্বার্থে দায়িত্বশীলতা জরুরি
কক্সবাজার দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র। এখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পর্যটক নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হলে তার প্রভাব পড়ে জাতীয় অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিতে। এমন প্রেক্ষাপটে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণবিহীন অভিযোগ শুধু ব্যক্তিগত সুনামহানিই নয়, বরং বাহিনীর মনোবল ভেঙে দেওয়ার শামিল।
টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়ন স্পষ্ট করেছে—অবৈধ বিচ দখল ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অভিযান চলমান থাকবে। কোনো অপপ্রচার, চাপ বা প্রভাব তাদের আইনানুগ দায়িত্ব পালনে বিরত রাখতে পারবে না। একই সঙ্গে তারা গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীলতা বজায় রেখে নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান

সংবাদ টি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ