রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন

ফী সাবিলিল্লাহ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কর্তৃক আয়োজিত হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার ফাইনাল রাউন্ড অনুষ্ঠিত।

এমদাদুল হক, স্টাফ রিপোর্টার।
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৯ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৪৩ বার পড়া হয়েছে

এমদাদুল হক, স্টাফ রিপোর্টার।

কুরআনের হিফজ রক্ষাকারীরা আল্লাহর প্রতিশ্রুতির অংশীদার।

আল্লাহর কালাম কুরআনুল কারিমের হিফজ ও প্রচারে নিবেদিত সংগঠন ফী সাবিলিল্লাহ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কর্তৃক আয়োজিত জেলা ভিত্তিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতার ফাইনাল পর্ব ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় । শনিবার ভোলার খায়ের হাটে মাদীনাতুল উলুম কুয়েত মাদরাসায় এ পর্বটি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট ক্বারী মাওলানা ইব্রাহিম খলিল।
প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন হাফেজ মাওলানা মিজানুর রহমান আজাদী।
প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন
মুফতি ইমাম মোঃ রেজাউল কারীম বুরহানী, সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী (ভোলা-০২), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানে ভোলার শীর্ষ স্থানীয় শতাধিক উলামায়ে কেরাম, শিক্ষক, হাফেজে কুরআন, অভিভাবক ও সাধারণ মুসল্লিগণ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন

“যারা আল্লাহর কিতাব মুখস্থ করছে, তারা আসলে আল্লাহর সেই প্রতিশ্রুত সংরক্ষণের অংশীদার, যা তিনি নিজেই ঘোষণা করেছেন—
‘ইন্না নাহনু নায্জালনাযিকরা ওয়া ইন্না লাহু লাহাফিজুন।’”

তারা আরও বলেন,

“কুরআনের হাফেজ হওয়া শুধু দুনিয়ার সম্মান নয়; এটি আখিরাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা অর্জনের পথ।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে ও মুখস্থ রাখে, তাকে জান্নাতে বলা হবে— পাঠ করো ও উঠতে থাকো।’”

অক্টোবর মাসের ৮ তারিখে ভোলার প্রতিটি উপজেলায়, উপজেলা ভিত্তিক প্রতিযোগিতায় প্রায় ২৫০ এর অধীক শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতা গতকাল শনিবার ৮ নভেম্বর শেষ হয়।

চুড়ান্ত পর্বে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে মোট ৩০ টি প্রতিষ্ঠানের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
এর মধ্যে ১৫ জন শিক্ষার্থীকে ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হয়।

তন্মধ্যে

প্রথম স্থান অধিকারী: আব্দুল্লাহ আল আরাফাত, ইকরা মাদ্রাসা — নগদ ৫,০০০ টাকা, ক্রেস্ট ও সনদ।

দ্বিতীয় স্থান অধিকারী: আনাস, আলিনগর আজিজিয়া মাদ্রাসা — নগদ ৩,০০০ টাকা, ক্রেস্ট ও সনদ।

তৃতীয় স্থান অধিকারী: আব্দুল্লাহ আল মামুন, রহিমিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা — নগদ ২,০০০ টাকা, ক্রেস্ট ও সনদ।

অন্যান্য বিজয়ীদেরও উৎসাহমূলক পুরস্কার ও সনদ প্রদান করা হয়।

তরুণ প্রজন্মকে কুরআনের দিকে ফেরাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে,
ফী সাবিলিল্লাহ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়,
এই প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্য হলো দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশু-কিশোরদের কুরআনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা, তাদের হৃদয়ে দ্বীনি চেতনা ও ঈমানি প্রেরণা সৃষ্টি করা।

“আমরা চাই, প্রতিটি গ্রামে অন্তত একজন হাফেজে কুরআন তৈরি হোক;
আমাদের সমাজে কুরআনের আলো ছড়িয়ে পড়ুক, যাতে তরুণ প্রজন্ম মাদক, ভোগবাদ ও অনৈতিকতার অন্ধকার থেকে মুক্তি পায়।” — আয়োজকরা।

ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম

ফী সাবিলিল্লাহ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ দারিদ্র্যপীড়িত এলাকায় হিফজুল কুরআন মাদরাসা সহায়তা, এতিম শিশুদের শিক্ষা, রোহিঙ্গা ও দুর্যোগ–আক্রান্ত এলাকায় মানবিক সহায়তাসহ বিভিন্ন খাতে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে (ফি সাবিলিল্লাহ) কাজ করে যাচ্ছে।

দোয়া ও সমাপ্তি

অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
আলোচনা শেষে সম্মিলিতভাবে দোয়া করা হয়—

“আল্লাহ তাআলা যেন এই কুরআন প্রতিযোগিতাকে কবুল করেন,
নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে কুরআনের প্রেম জাগিয়ে তোলেন,
এবং আমাদের সমাজকে কুরআনের আলোয় আলোকিত করেন। এই আশা ব্যক্ত করে এই বছরের মত প্রতিযোগিতা সমাপ্ত করা হয়।

সংবাদ টি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ