মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩৩ অপরাহ্ন

বিতর্ক প্রতিযোগিতা মেধা বিকাশে ভূমিকা রাখে — উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজিব সরকার

স্টাফ রিপোর্টার: গোলাম জিলানী, দিরাই
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১২০ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার: গোলাম জিলানী, দিরাই

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সনজিব সরকার বলেছেন, “এক সময় স্কুল, কলেজসহ সমাজসেবামূলক সংগঠনগুলো শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চায় উৎসাহিত করতে ঘন ঘন বিতর্ক ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করত। কিন্তু কালের আবর্তে আজ সেই আয়োজনগুলো অনেকটাই কমে গেছে। সমাজ সেবা ফাউন্ডেশন যে আজ কলেজ ও হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য উদ্যোগ।”

শুক্রবার বিকেলে দিরাই সমাজ সেবা ফাউন্ডেশন আয়োজিত “বিতর্ক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান”-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা গণমিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি রুবেল আহমদ এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক গোলাম জিলানী।

ইউএনও সনজিব সরকার বলেন, “অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত সাবলীল ভাষায় তাদের বিষয় উপস্থাপন করেছেন। আমি মনোযোগ দিয়ে তাদের উপস্থাপনা শুনেছি, এবং দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—আজকের বিতর্ক প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আগামীতে সমাজসেবা মূলক সংগঠনগুলো যেন এ ধরনের প্রতিযোগিতা নিয়মিত আয়োজন করে, সেটি আমাদের প্রত্যাশা।”

তিনি আরও বলেন, “একঝাঁক কর্মঠ ও উদ্যমী তরুণদের এই সংগঠন ভাটি অঞ্চলের শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি বিকাশ এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের ইতিবাচক উদ্যোগে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম খান, দিরাই প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক সোয়েব হাসান, সাবেক সভাপতি সামছুল ইসলাম সরদার খেজুর, সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান লিটন, সুনামগঞ্জ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা সরদার রুমি, বাংলাদেশ ফিমেইল একাডেমির প্রিন্সিপাল নাজমা বেগম, শিক্ষক চন্দ্র সেন তালুকদার, দিরাই বাজার মহাজন সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলমাসুদ, ও ভাটি বাংলা সমবায় সমিতির সভাপতি প্রশান্ত সাগর দাস, অনুকূল ফার্মেসীর প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষানুরাগী দেবাশীষ দাস প্রমুখ।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, বিতর্ক কেবল প্রতিযোগিতা নয়, এটি শিক্ষার্থীদের চিন্তা, যুক্তি ও উপস্থাপন দক্ষতা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এমন আয়োজন তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক চিন্তাধারায় অনুপ্রাণিত করে সমাজ ও দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে সহায়তা করে।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। তিনটি কলেজ পর্যায়ের দল অংশগ্রহণ করে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) মানবিক ভবিষ্যতের অন্তরায়’ বিষয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে। এর মধ্যে যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করে তিনটি দল।

পাশাপাশি দুটি উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত বিতর্ক প্রতিযোগিতায় আলোচিত বিষয় ছিল ‘জলবায়ু সংকট ও আমাদের দায়’। দীর্ঘ যুক্তিতর্কের মধ্য দিয়ে স্কুলপর্যায়ে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান নির্ধারিত হয়।

এতে মডারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দিরাই সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক জানব সন্দীপন দাস। বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মোস্তাহার মিয়া (মুস্তাক সুরমা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, পাতারিয়া), চন্দ্র সেন তালুকদার (সহকারী প্রধান শিক্ষক, রাজানগর কৃষ্ণচন্দ্র পাবলিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়) এবং মিজানুর রহমান পারভেজ (প্রভাষক, আইসিটি বিভাগ, দিরাই সরকারি কলেজ)।

বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, এমন আয়োজন তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে এবং যুক্তি উপস্থাপনায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও দিরাই সমাজ সেবা ফাউন্ডেশন শিক্ষার্থীদের মানসিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখবে।

সংবাদ টি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ