
মো:সালাম রাব্বানী
দিনাজপুর প্রতিনিধি
দিনাজপুরে তীব্র শীতের সঙ্গে বইছে হিমেল হাওয়া, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে চরমভাবে ব্যাহত করেছে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য পরিস্থিতি হয়ে উঠেছে অসহনীয়।
এ মাসের শুরু থেকেই ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহে শীতের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। দিনের শুরুতেই কুয়াশা আর শীতল বাতাস চারপাশ ঢেকে রাখে। বিকেলের পর থেকে শিশির পড়ার কারণে পরিবেশ আরও ঠাণ্ডা হয়ে যায়, আর সন্ধ্যা নামার পর ঘন কুয়াশায় আকাশ অদৃশ্য হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে মানুষের বাইরে বের হওয়া এবং স্বাভাবিক কাজকর্ম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
শীতের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ। তীব্র ঠান্ডায় তারা ঠিকমতো কাজ করতে পারছে না, ফলে তাদের আয়ের পরিমাণ কমে গেছে। শীত নিবারণের জন্য এসব মানুষ খরকুটো জ্বালিয়ে কোনোভাবে দিন কাটাচ্ছে। কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।
অন্যদিকে, শীতের প্রকোপে ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। শীতবস্ত্র কেনার জন্য পুরনো কাপড়ের দোকানে মানুষের ভিড় লক্ষ করা গেলেও দাম বেশি হওয়ায় দরিদ্র মানুষদের অনেকেই প্রয়োজনীয় পোশাক কিনতে পারছে না।
শীতের তীব্রতায় শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি ভুগছে। সর্দি, জ্বর, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও অ্যাজমাসহ শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে তাদের ভোগান্তি বেড়েছে। পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাবও এ সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলছে।
তবে এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরাও তাদের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ করছেন। তবে ভুক্তভোগীরা জানান, অনেকেই এখনো পর্যাপ্ত সহায়তা পাননি। তারা প্রত্যাশা করছেন, সবাই যেন প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা পায়।
এ পরিস্থিতিতে দিনাজপুরের শীতার্ত মানুষরা সরকারি উদ্যোগ আরও জোরদার করার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। শীতবস্ত্র ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গেলে তাদের এই দুঃসময় কিছুটা হলেও সহজ হবে।