
কয়রা খুলনা প্রতিনিধি : মোস্তফা রেজওয়ানুল করিম :
খুলনার কয়রা উপজেলায় এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন খুলনা জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পি।
শনিবার (২৮ মার্চ) বিকাল ৪টার দিকে কয়রা সুন্দরবন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এই সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি কয়রাবাসীর কল্যাণে কাজ করে যেতে চান।
সংবর্ধনা সভায় মনিরুল হাসান বাপ্পি স্থানীয় জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, রাজনৈতিক জীবনে জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থনই তার সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সংগঠনকে এগিয়ে নিয়েছেন, তাই তাদের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে তিনি রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, গতানুগতিক ধারা থেকে বেরিয়ে এসে জনগণকেন্দ্রিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা হবে।
তিনি কঠোর ভাষায় সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এলাকায় কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা দখলবাজি বরদাশত করা হবে না। বিশেষ করে ঘের দখল, চাঁদাবাজি কিংবা সাধারণ মানুষের ওপর অন্যায় চাপ সৃষ্টি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, আইন লঙ্ঘনকারীরা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব নুরুল আমিন বাবুল এবং সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সদস্য এম এ হাসান। সভাপতির বক্তব্যে নুরুল আমিন বাবুল বলেন, কয়রার সার্বিক উন্নয়নে জেলা পরিষদের বরাদ্দ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নবনিযুক্ত প্রশাসকের নেতৃত্বে এলাকার অবকাঠামো, শিক্ষা ও যোগাযোগ খাতে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও জোরদার হবে।
সভায় জেলা ও উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা স্থানীয় সমস্যা সমাধান, সংগঠনের ঐক্য জোরদার এবং আগামী দিনে গণমুখী কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পুরো আয়োজনটি উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় এবং স্থানীয় জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ঘিরে কয়রায় এক ধরনের উৎসবমুখর আবহ তৈরি হয়, যেখানে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। বক্তাদের বক্তব্যে ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা ও জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটায় অনুষ্ঠানটি গুরুত্ববহ হয়ে ওঠে।