ডিসেম্বর মাসকে সামনে রেখে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অচল করে দেওয়ার ছক কষেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের অন্তত ১৪টি কৌশলগত ও নির্জন পয়েন্টে যানবাহন ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির পাঁয়তারা করছে দলটির নেতাকর্মীরা। পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের ইন্ধন ও অর্থায়নে এসব ক্যাডাররা সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে বলে স্থানীয় সূত্রে তথ্য পাওয়া গেছে।
মহাসড়কের ১০৩ কিলোমিটার অংশ দেশের বাণিজ্যিক হৃৎপিণ্ড হিসেবে পরিচিত।
অতীতেও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির ক্ষেত্রে এই সড়কটিকেই প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। ফলে সরকারের ওপর চাপ তৈরি করতে বা জনমনে আতঙ্ক ছড়াতে এই সড়কটিকেই মূল লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। অতীতের রেকর্ড বিশ্লেষণ করেও দেখা গেছে, যেকোনো বড় রাজনৈতিক অচলাবস্থায় এই মহাসড়কে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালানোর প্রবণতা বেশি।
গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, দাউদকান্দি উপজেলার শহীদনগর, ইলিয়টগঞ্জ, পুটিয়া, তীরচর ও গোমতা; চান্দিনা উপজেলার মাধাইয়া ও কাঠেরপুল; বুড়িচং উপজেলার নিমসার ও কাবিলা; আদর্শ সদর উপজেলার সৈয়দপুর, আলেখারচর ও কোটবাড়ী; সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার এবং চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা—এই পয়েন্টগুলোকে নাশকতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। রাতের আঁধারে এসব স্থানে ককটেল নিক্ষেপ বা অগ্নিসংযোগের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই পরিকল্পনা নস্যাৎ করতে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে জেলাজুড়ে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে। সম্প্রতি অভিযানে গ্রেফতার হওয়া ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই নাশকতার পরিকল্পনার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আভাস পেয়েছে পুলিশ। কুমিল্লার গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি মোহাম্মদ শামছুল আলম শাহ জানান, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের অবস্থান চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নাশকতার পরিকল্পনার শেষ বিন্দু পর্যন্ত এই অভিযান চালানো হবে। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও গোপন নজরদারির মাধ্যমে আমরা তাদের অবস্থান চিহ্নিত করছি।
নিরাপত্তার বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার মঞ্জুর মোর্শেদ জানিয়েছেন, জেলা পুলিশের পাশাপাশি হাইওয়ে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছে। তিনি বলেন, মহাসড়কের ১০৩ কিলোমিটারজুড়ে দিন-রাত বিশেষ টহল ও তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। কোনো অশুভ শক্তিকে জনগণের জানমালের ক্ষতি করতে বা যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করতে দেওয়া হবে না। নাশকতা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

