
মোঃ নুরনবী সরকার নাগেশ্বরী প্রতিনিধিঃ
পলিথিন দিয়ে ঢাকা একটি ঝুপড়ি ঘরে দুই বোন, বাবা ও মাকে নিয়ে সুমির বসবাস। একটু বৃষ্টির পানি পরলেই যেন বাহিরের চেয়ে ঘরের ভিতরে বেশি বৃষ্টি হয়।
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর রায়গঞ্জ ইউনিয়ন এর যুব সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুমি রানি মহিদেব যুব সমাজ কল্যাণ সমিতির প্রশিক্ষণ পেয়ে আত্মবিশ্বাসী হয়েছে।
সে রায়গঞ্জ ইউনিয়নের বাজারের পশ্চিমে রায়গঞ্জ এর বাসিন্দা। তার বাবা সুনিল চন্দ্র, মা লক্ষি রানি। সুনিল চন্দ্রের তিন মেয়ে কোন ছেলে সন্তান নেই। বড় মেয়ের বিয়ে হলেও এখনো বাকি দুই মেয়ের বিয়ে। ছোট মেয়ে… রানী মেঝো মেয়ে সুমি রানি। ছোট মেয়ে রায়গঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। সুমি রানি রায়গঞ্জ ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী।
বিগত প্রায় ৪ বছর আগে সুনিল চন্দ্র উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কর্ম ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। পরিবারের উপার্জন ক্ষম কোন লোক না থাকায় সুমির লেখা পড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়।
কিন্তু সুমির ইচ্ছা ছিলো সে বড় হবে এবং অসুস্থ বাবার চিকিৎসা ছোট বোনের লেখা পড়া ও সংসারে হাল ধরা তার বিবেককে তারা করতে থাকে।
সেই চিন্তা মাথায় রেখে সে নবম শ্রেণি পড়া অবস্থায় মানুষের বাসায় বাসায় গিয়ে প্রাইভেট পড়ানো শুরু করে।
একপর্যায়ে রায়গঞ্জ ইউনিয়ন এর যুব সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হয় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে। সমিতির কিছু পরামর্শ ও আর্থিক সহযোগিতা পেয়ে আত্মবিশ্বাসী হয়। সমিতির
বিভিন্ন মিটিং এ আলোচনা করতে করতে বর্তমানে তার জীবন চলার পথ সহজ করে তোলে। সে এখন পড়ালেখা শেষ করে বড় কিছু হতে চায়।
বাবার চিকিৎসা ছোট বোনের বিয়ে এবং মায়ের দেখা শোনা করা এখন সুমির হাতে। হতাশায় দিন কাটছে বাবা মায়ের। সুমি বড় হওয়ার স্বপ্ন কি স্বপ্ন থেকে যাবে না বাস্তবতা দেখবে সেই আশা হতাশা নিয়ে মা লক্ষি রানি বলেন, আমার কেউ দেখার নেই মেয়েদের বিয়ে দিবো সে ক্ষমতা ও নেই।