বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন

দালাল সালেহ আহমদের খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব তায়েফের পরিবার

স্টাফ রিপোর্টার: গোলাম জিলানী:
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪৫ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার: গোলাম জিলানী:

উন্নত ভবিষ্যতের আশায় বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে ইউরোপের পথে যাত্রা করেছিলেন সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের মাটিয়াপুর গ্রামের তরুণ মেহেদী হাসান তায়েফ। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি—দালাল চক্রের নির্মম নির্যাতনে মাঝপথেই ঝরে গেছে তার জীবন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিস যাওয়ার পথে অমানবিক নির্যাতন ও অনাহারের কারণে মৃত্যুবরণ করেন তায়েফ। তার এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহতের পিতা আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করে জানান, একই উপজেলার জগদল গ্রামের ইতালি প্রবাসী সালেহ আহমদের প্রলোভনে পড়ে তিনি ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। নিরাপদে ইউরোপে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাসে প্রথমে ১২ লাখ টাকায় চুক্তি হলেও পরে তা বাড়িয়ে ১৩ লাখ টাকায় নির্ধারণ করা হয়। চুক্তির অংশ হিসেবে দালালের মায়ের হাতে নগদ এক লাখ টাকা প্রদান করেন তিনি।

কিন্তু লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর থেকেই তায়েফের জীবনে নেমে আসে বিভীষিকা। আনোয়ার হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“আমার ছেলেকে একবেলা খাবার বা একফোঁটা পানিও দেওয়া হয়নি। দিনের পর দিন না খাইয়ে রেখে তারা তাকে তিলে তিলে হত্যা করেছে।”

অভিযোগ রয়েছে, লিবিয়ায় অবস্থানরত দালাল চক্রের সদস্যরা তায়েফের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। দীর্ঘদিন অনাহারে ও নির্যাতনে দুর্বল হয়ে পড়া তায়েফ শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

অভিযুক্ত সালেহ আহমদ দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের নতুন জগদল গ্রামের বাসিন্দা এবং বর্তমানে ইতালিতে অবস্থান করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সেখান থেকেই লিবিয়াভিত্তিক মানবপাচারকারী চক্রের মাধ্যমে লোক পাঠাতেন। তায়েফের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে চলে গেছেন এবং পরিবারের সাথে সকল যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন।
একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন পিতা আনোয়ার হোসেন। তিনি সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন,
“আমি আমার সন্তানকে হারিয়েছি, আর কোনো বাবা যেন এভাবে সন্তান না হারায়। আমি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝেও তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসী দ্রুত মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

সংবাদ টি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ