বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন

বাগেরহাট হাসপাতালের বড় বাবুর বিরুদ্ধে আউট সোর্সিং কর্মীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ায় অভিযোগ

এস এইচ রতন, বাগেরহাট।
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

এস এইচ রতন, বাগেরহাট।

বাগেরহাট জেলা সদরের ২৫০ শয্যা হাসপাতালে বড় বাবু মোহিতুর রহমানের বিরুদ্ধে আউট সোর্সিং কর্মীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই হাসপাতালে কর্মরত আউটসোর্সিং কর্মীরা আট মাস ধরে বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের অভিযোগ, বেতন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে হাস পাতালের প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা মহিতুর রহমান কর্মীদের কাছ থেকে টাকা নেয়। শুধু এ ক্ষেত্রে নয়, বেতন দেওয়ার সময়ও জনপ্রতি ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন আউট সোর্সিং কর্মীরা। হাসপাতালে পরিদর্শনে গেলে নব নির্বাচিত সংসদ সদস্যের কাছে অভিযোগ দেন তারা।
বাগেরহাট হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এখানে ৯৪ জন আউটসোর্সিং কর্মী কর্মরত আছেন। এদের মধ্যে ৬৬ জন আগের নিয়োগে এবং নতুন নিয়োগে ২৮ জন। তবে পুর্বের নিয়োগকৃত ৬৬ জন আউটসোর্সিং কর্মী ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে বেতন বন্ধ রয়েছে। প্রতিমাসে তাদের বেতন ১৬,৫০০ টাকা। গত ৮ মাস ধরে বেতন পাচ্ছে না।এতে পরিবার নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটছে আউটসোর্সিং কর্মীদের। কর্মীদের অভিযোগ, হাসপাতালের প্রধান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক কর্মকর্তা মহিতুর রহমান ঠিকাদারদের কাছ থেকে বেতন পাইয়ে দেওয়ার নামে বিভিন্ন সময়ে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা নেয়। কিন্তু তাদের বেতন না দিয়ে তালবাহান করতে থাকে। কখন্ও বেতনের টাকার কথা জানতে চাইলে চাকুরী থেকে অব্যাহতি ও নানা হুমকি ধামকি দেয় বলে অভিযোগ করেন তারা।এছাড়া এর আগে বেতন দেওয়ার সময়ে জনপ্রতি ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা ঘুষ নেয়। হাসপাতাল পরিদর্শনে গেলে স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে অভিযোগ করেছেন আউটসোর্সিং কর্মীরা।

আউটসোর্সিং কর্মী আকলিমা বেগম বলেন, আট মাস ধরে বেতন নেই। বাসা ভাড়া, বাজার—সবকিছু বন্ধ হওয়ার উপক্রম। ধারদেনা করে সংসার চালাতে হয়।বেতনের কথা বললেই ঘুরানো হয়। আরেক কর্মী বর্না বলেন, আমরা গরিব মানুষ। কাজ করে টাকা না পেলে চলবো কীভাবে? আগে বেতন দিলে ৫০০-১০০০ টাকা করে কেটে নেওয়া হতো।

আউটসোর্সিং কর্মীদের সাধারণ সম্পাদক আলামিন বলেন, দ্রুত বেতন ছাড় করিয়ৈ আনার জন্য আমাদের কাছ থেকে প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা মহিতুর রহমান বিভিন্ন সময় দেড় লক্ষ টাকা নেয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি। খুব খারাপ অবস্থায় দিন পার করছি। আমাদের ৬৬ জন কর্মীদের দ্রুত বেতনের ব্যবস্থার দাবী জানান। এদিকে দ্রুত বেতন পরিশোধ ও অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কর্মীরা। তাদের ভাষায়, কাজ করে বেতন না পেলে আর কতদিন চলা যায়?।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত প্রধান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক কর্মকর্তা মহিতুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সঠিক নয়। নিয়ম অনুযায়ীই সব কাজ করা হচ্ছে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ জানান, আউটসোর্সিং কর্মীদের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। যদি কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ##

সংবাদ টি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ