বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজার সদরে বনভূমি দখল করে বহুতল বভন নির্মাণের চেষ্টা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কাজ বন্ধ

শাহাব উদ্দিন মুন্না : কক্সবাজার প্রতিনিধি।
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

শাহাব উদ্দিন মুন্না : কক্সবাজার প্রতিনিধি।

কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংঝা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জেলগেট সংলগ্ন মসজিদ রোড এলাকায় সরকারি বনভূমি দখল ও পাহাড় কেটে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে মোহাম্মদ সোহেল ও মোহাম্মদ জুনায়েদ নামে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বিষয়টি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

পরিবেশবাদী আব্দুল আমিন (আমিন) গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে পরিবেশ অধিদপ্তর, কক্সবাজার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বন বিভাগের মালিকানাধীন পাহাড়ি জমি দখল করে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে মাটি কেটে বহুতল ভবনের ভিত্তি নির্মাণ করছেন, যা পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও পাহাড় কাটার নিষেধাজ্ঞার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২৩ ফেব্রুয়ারি পরিবেশ অধিদপ্তরের ইনস্পেক্টর মুছাইব রহমানের নেতৃত্বে একটি পরিদর্শন দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরিদর্শনকালে অভিযুক্তের কাছে জমির বৈধ কাগজপত্র বা লিখিত অনুমোদনপত্র চাওয়া হলে তিনি তা প্রদর্শনে ব্যর্থ হন। এতে অভিযোগের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ আরও জোরদার হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জায়গাটি দীর্ঘদিন ধরে বন বিভাগের অধীনে ছিল এবং পাহাড় কেটে ভবন নির্মাণ অব্যাহত থাকলে আশপাশের বসতবাড়ি, সড়ক ও পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাহাড় কাটার ফলে ভূমিধসের আশঙ্কা বৃদ্ধি, জলাধার নষ্ট হওয়া এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি অনিবার্য হয়ে ওঠে, যা উপকূলীয় জেলা হিসেবে কক্সবাজারের জন্য আরও বিপজ্জনক।

পরিদর্শন শেষে পরিবেশ অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার জেলা সভাপতি ও দৈনিক জনকণ্ঠ-এর স্টাফ রিপোর্টার এইচ. এম. এরশাদ বলেন, সরকারি বনভূমি দখল ও পাহাড় কর্তনের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃশ্যমান আইনগত পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আরও প্রভাবশালী মহল এ ধরনের কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত হবে।

পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর অবস্থান এখন সময়ের দাবি।উল্লেখ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত) অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া পাহাড় কাটা ও বনভূমি দখল দণ্ডনীয় অপরাধ। স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা এবং দখলমুক্ত করে বনভূমি পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। সবার নজর এখন পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপের দিকে।

সংবাদ টি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ