
জামাল উদ্দীন কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি।
কক্সবাজারের হ্নীলা–হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় পৃথক দুইটি অভিযানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করেছে। অভিযানে মোট ৯ লাখ ৮০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। এ সময় চোরাকারবারিদের সঙ্গে বিজিবির ঘণ্টাব্যাপী গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি রামু সেক্টরের সেক্টর কমান্ডারের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পরিচালক (অপারেশন) এর নেতৃত্বে রামু সেক্টর, উখিয়া ও টেকনাফ ব্যাটালিয়নের যৌথ টহল দল উখিয়ার হ্নীলা বিওপি থেকে দেড় কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে চৌধুরীপাড়া স্লুইচ গেট সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
রাত আনুমানিক ১টার দিকে মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ৮-১০ জন সশস্ত্র চোরাকারবারিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেখে বিজিবি টহল দল তাদের চ্যালেঞ্জ করে। এ সময় চোরাকারবারিরা এলোপাতাড়ি গুলি চালালে আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও পাল্টা ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টা গুলি বিনিময় হয়। একপর্যায়ে চোরাকারবারিরা বহনকৃত ইয়াবা ফেলে পালিয়ে যায়।
পরে নাফ নদী ও বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে বিজিবি ৭ লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে, যা সাম্প্রতিক সময়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যতম বড় মাদক উদ্ধার অভিযান বলে জানানো হয়েছে।
এর আগে একই রাতে (১৭ ফেব্রুয়ারি) উখিয়া ব্যাটালিয়নের আরেকটি বিশেষ টহল দল হোয়াইক্যং বিওপি এলাকা থেকে দেড় কিলোমিটার উত্তর দিকে মনিরঘোনা নামক স্থান থেকে ২ লাখ ৭০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে।
সব মিলিয়ে উখিয়া ব্যাটালিয়নের আওতাধীন এলাকায় দুইটি পৃথক অভিযানে মোট ৯ লাখ ৮০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান রোধে বিজিবি সর্বদা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। সীমান্ত এলাকাকে মাদকমুক্ত রাখতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। মাদক চোরাকারবারীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে এবং এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও জানান, উদ্ধারকৃত ইয়াবা টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।