বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন

ধনবাড়ীতে ৭ বছরের শিশু কন্যা মারিয়া মিমের ধর্ষনসহ হত্যা মামলা ৪৮ ঘন্টার মধ্যে রহস্য উদঘাটন ০৩ জন আসামী গ্রেফতার..

মোঃ আল আমিন সরকার,ঃ
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৭ বার পড়া হয়েছে

মোঃ আল আমিন সরকার,ঃ

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী থানাধীন যদুনাথপুর বাড়ইপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ উজ্জল হোসেন (৫৩), পিতা-মোঃ সোলায়মান, সাং-বাড়ইপাড়া, গ্রামে শশুরের সাথে বিবাদীদের দীর্ঘদিন যাবত জমি-জমা নিয়া বিরোধ ছিল। গত ইং ২৬/০১/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ বিকাল অনুমান ৩-০৩ ঘটিকার সময় হতে ভিকটিম মারিয়া আক্তার (০৭) নিখোঁজ হয়। পরবর্তীতে খোজাঁখুজি করিয়া কোথাও না পাইয়া বাদী ধনবাড়ী থানায় আসিয়া তার মেয়ের বিষয়ে একটি নিখোঁজ জিডি করে। ধনবাড়ী থানা পুলিশ নিখোজঁ সংক্রান্তে সম্ভাব্য সকল স্থানে অনুসন্ধান করে। ইং ০১/০২/২০২৬ তারিখ বাড়ইপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মক্তব শেষ করিয়া তাহার বাড়ি যাওয়ার পথে জনৈক শাহাদাতের বাড়ির পার্শ্বে দূর্গন্ধ পাইয়া আশপাশের লোকজনদেরকে ডাক দেয়। আশপাশের লোকজনসহ খোজাঁখুজি করাকালে অদ্য ইং ০১/০২/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ সকাল অনুমান ০৮: ঘটিকার সময় ধনবাড়ী থানাধীন বাড়ইপাড়া সাকিনস্থ জনৈক শাহাদাত হোসেনের পরিত্যক্ত বসতঘরের স্টিলের ট্রাংকের ভিতরে অর্ধ গলিত অবস্থায় একটি লাশ দেখিতে পায়। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে বাদীর পরিবারের সদস্যগন ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিকটিমের গায়ের জামা কাপড় দেখিয়া লাশ সনাক্ত করে।

ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় বাদীর ধারনা অজ্ঞাতনামা বিবাদীরা পরস্পর যোগসাজসে পূর্ব শত্রুতার জের ধরিয়া ইং ২৬/০১/২০২৬ তারিখ বিকাল অনুমান ০৩:৩০ ঘটিকা হইতে ইং ০১/০২/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ সকাল অনুমান ০৮:ঘটিকার মধ্যে যে কোন সময় বাদীর মেয়ে মারিয়াকে হ**-ত্যা করিয়া লাশ গুম করে জনৈক শাহাদাতের ঘরে স্টিলের ট্রাংকের ভিতরে লুকিয়ে রাখে। ধনবাড়ী থানা পুলিশ সংবাদ পাইয়া তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পৌছাইয়া বাদীর মেয়ে মারিয়ার মৃতদেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করিয়া লাশের পোস্টমর্টেমের জন্য টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে প্রেরন করে। উক্ত বিষয়ে ভিকটিমের পিতা মোঃ উজ্জল হোসেন বাদী হয়ে ধনবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলার এজাহার দায়ের করেন। ধনবাড়ী থানার মামলা নং-০১, তারিখ-০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড রুজু করা হয়।

অত্র থানায় মামলা রুজু হওয়ার পরপরই এজাহারনামীয় দুইজন আসামী ১। মোঃ রাফিউল ইসলাম রাফি (২২), পিতা-আঃ রহিম, ২। মোঃ সুমন মিয়া (২৬), পিতা-ময়েন উদ্দিন, উভয় সাং-বাড়ইপাড়া, থানা-ধনবাড়ী, জেলা-টাঙ্গাইলদ্বয়কে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়। কিন্তু অত্র মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ একটি চৌকস টিম এজাহারনামীয় আসামীদ্বয়ের উক্ত হত্যাকান্ডের সহিত জড়িত থাকার সুস্পষ্ট তথ্য প্রমাণ না পাওয়ায় টাঙ্গাইল জেলার মাননীয় ও পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশক্রমে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) এবং সহকারী পুলিশ সুপার, (মধুপুর সার্কেল), মামলার ঘটনাস্থলে ধনবাড়ী থানা পুলিশের একটি চৌকস আভিযানিক টিমসহ সরেজমিনে উপস্থিত হয় এবং পুনরায় তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।

ঘটনাটি লোমহর্ষক ও চাঞ্চল্যকর হওয়ায় টাঙ্গাইল জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার মহোদয়ের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ), সহকারী পুলিশ সুপার, মধুপুর সার্কেল দিক নির্দেশনা ও উপস্থিত থাকিয়া সার্বিক তদারকি ও একাধিক বার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন কালে ঘটনাস্থল পাশে পরিত্যক্ত অন্য একটি ঘর থেকে ১টি পুথির মালা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত পুথির মালার সূত্র হইতে মারিয়া হত্যাকান্ডে তদন্তেপ্রাপ্ত আসামী সাজিব উদ্দিনের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। সদা জাগ্রত ধনবাড়ীবাসী উক্ত মারিয়া হত্যাকান্ড নিয়ে ধনবাড়ী বাসস্ট্যান্ডে ইং ০২/০২/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ দুপুর ১৪:০০ ঘটিকার সময় হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে একটি মানববন্ধন করে। পরবর্তীতে ধনবাড়ী থানার একটি চৌকস টিম গিয়ে তদন্তেপ্রাপ্ত আসামী মোঃ সাজিব উদ্দিনকে মানবন্ধন থেকে সুকৌশলে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তদন্তেপ্রাপ্ত আসামী সাজিবকে নিবিড় ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করিয়া জানা যায় যে, তার প্রহরার মাধ্যমে তদন্তেপ্রাপ্ত আসামী ১। মোঃ মৃদুল (১৫), ২। মোঃ রায়হান কবীর (১৬), দুজনে মিলে ধর্ষন করিয়া ভিকটিমকে হত্যা করে। হত্যা করার পর কৌশলে লাশ গুম করার জন্য জনৈক শাহাদাতের পরিত্যক্ত বাড়িতে স্টিলের ট্রাংকের ভিতর লুকিয়ে রাখে।

পরবর্তীতে আসামী সাজিবের দেয়া তথ্যমতে সহকারী পুলিশ সুপার, মধুপুর সার্কেল, মোঃ আরিফুল ইসলাম এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে অফিসার ইনচার্জ, মোঃ, নূরুস সালাম সিদ্দিক এর নেতৃত্বে এসআই (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ ফিরোজ আহমেদ, এসআই (নিঃ) মোঃ মনোয়ার হোসেন, এসআই (নিঃ)/মোঃ আরিফুল হাসানসহ ধনবাড়ী থানারে একটি চৌকস টিম বিশেষ অভিযান পরিচালনা করিয়া আসামী ১। মোঃ মৃদুল (১৫), পিতা- মোঃ মজনু মিয়া-স্থায়ী: গ্রাম- বাড়ইপাড়া, থানা- ধনবাড়ি, জেলা-টাঙ্গাইল, ২। মোঃ রায়হান কবীর (১৬), পিতা-মোঃ আব্দুর রহমান, সাং- বাড়ইপাড়া, থানা- ধনবাড়ী, জেলা-টাঙ্গাইলদ্বয়কে গ্রেফতার করে থানা হেফাজতে রাখিয়া নিবিড় ভাবে জিজ্ঞাসাবাদে আসামী ১। মোঃ মৃদুল ২। মোঃ সাজিব ৩। মোঃ রায়হানদেরকে নিবিড় ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করিলে তাহারা মারিয়া হত্যাকান্ডে জড়িত আছে। উক্ত গ্রেফতারকৃত আসামী ১। মোঃ মৃদুল, ২। মোঃ রায়হান কবীর, ৩। মোঃ সাজিব উদ্দিনদেরকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করিলে তাহারা ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারায় ভিকটিম মারিয়া হত্যাকান্ডে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে। মাননীয় পুলিশ সুপার, টাঙ্গাইল মহোদয়ের নির্দেশনায় ধনবাড়ী থানার বাড়ইপাড়া গ্রামের ০৭ বছরের শিশু কন্যা মারিয়া ধর্ষনসহ হত্যা ক্লুলেস মামলা ৪৮ ঘন্টার মধ্যে রহস্য উদঘাটনসহ ০৩ জন আসামী গ্রেফতার পূর্বক বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়।

সংবাদ টি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ