
স্টাফ রিপোর্টার,গোলাম জিলানী দিরাই :
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর—বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর বিশ্বের বুকে জন্ম নেয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ ও অসংখ্য মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত এই মহান বিজয়ের চেতনাকে ধারণ করে সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলায় দিরাই সমাজ সেবা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিজয় র্যালি, আলোচনা সভা ও অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর ২০২৫) সকাল ১১টায় দিরাই বাজার ব্রিজ এলাকা থেকে একটি বর্ণাঢ্য বিজয় র্যালি বের করা হয়। র্যালিতে জাতীয় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে সংগঠনের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন,“মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমাজ গড়ি”, “মানবতার জয় হোক”—এমন বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
র্যালিটি দিরাই বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে দিরাই উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে ১৯৭১ সালের বীর শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার উপর গুরুত্বারোপ র্যালি শেষে দিরাই গণমিলনায়তনের সামনে অনুষ্ঠিত হয় এক আলোচনা সভা। দিরাই সমাজ সেবা ফাউন্ডেশনের সভাপতি দেবাশীষ দাস দেবল-এর সভাপতিত্বে এবং সমাজ সেবা সম্পাদক শেখ মারুফ হাসান-এর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা মুস্তাহার মিয়া মুস্তাক,আহ্বায়ক আমিরুল ইসলাম বাচ্চু,সিনিয়র সহ-সভাপতি সমিধ বরন দাস রতন,সহ-সভাপতি ইন্দজিত বৈষ্ণব, সদস্য মাছুম মিয়া,সাধারণ সম্পাদক গোলাম জিলানী,সহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সম্মানিত সদস্যরা।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, তৎকালীন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মমতা এবং বাঙালি জাতির অকুতোভয় সংগ্রামের নানা দিক তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, একটি স্বাধীন রাষ্ট্র শুধু ভৌগোলিক সীমারেখায় সীমাবদ্ধ নয়; ন্যায়বিচার, মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমেই স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ বাস্তবায়িত হয়।
বক্তারা আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের অন্যতম উপায় হলো সমাজসেবা। ক্ষুধার্ত মানুষকে খাদ্য দেওয়া, অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজে ন্যায় ও মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা। তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানানো এবং মানবিক কাজে সম্পৃক্ত করাই আজকের সময়ের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
সভাপতির বক্তব্যে দেবাশীষ দাস দেবল বলেন,
“মহান বিজয় দিবস আমাদের শিখিয়েছে মাথা উঁচু করে বাঁচতে। এই বিজয়ের চেতনাকে ধারণ করে দিরাই সমাজ সেবা ফাউন্ডেশন সবসময় মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবে। সমাজের অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
আলোচনা সভা শেষে দুপুর ১২টায় দিরাই বাজার ব্রিজ এলাকায় পথশিশু, ভিক্ষুক, দিনমজুর ও হতদরিদ্র মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়। শতাধিক অসহায় মানুষের মাঝে পুষ্টিকর খাবার বিতরণ করা হলে এলাকাজুড়ে এক মানবিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এ সময় সংগঠনের জানবাজ ও স্বেচ্ছাসেবী সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মসূচি বাস্তবায়নে অংশগ্রহণ করেন। অনেক অসহায় মানুষ এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
নতুন প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় আয়োজকরা জানান, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা—মানবতা, ত্যাগ, সাম্য ও দেশপ্রেম—নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া। ভবিষ্যতেও দিরাই সমাজ সেবা ফাউন্ডেশন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবিক সহায়তা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলে জানান নেতৃবৃন্দ।
শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।