নিজস্ব প্রতিবেদক।
দেশের উত্তরের দুই জেলার মুকুট জেতার লড়াই। সেখানে জোড়া গোলে এগিয়ে গেল দিনাজপুর। পিছিয়ে পড়ে হাল না ছাড়ার মানসিকতা দেখালো সিরাজগঞ্জ। নির্ধারিত সময়ে সমতায় ফিরল যমুনাপাড়ের দলটি। তবে ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে গিয়ে আর পেরে উঠলো না তারা। প্রথমবারের মতো জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা জিতল দিনাজপুর।
শনিবার কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে ফাইনাল মহারণে মাঠে নামে দুই দল। সেখানে ৩-২ ব্যবধানে শিরোপা জেতে মোহাম্মদ শামীম আহমেদের দিনাজপুর জেলা ফুটবল দল।
নভেম্বরের শেষ দিকে দেশে উত্তরাঞ্চলে যখন শীতে জুবুথুবু মানুষ, তখন ঢাকার কমলাপুরে উত্তাপ ছড়াল দুই দল। শুরু থেকে জমে ওঠে ম্যাচ। আক্রমণ, প্রতি আক্রমণে রোমাঞ্চ ইপভোগ করেন মাঠে আসা হাজারখানেক দর্শক।
এদিন অধিনায়ক সাগর মোহান্তর গোলে ১৩ মিনিটে লিড নেয় দিনাজপুর। ডান দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে সাগরকে বক্সের বাইরে থেকে আড়াআড়ি ক্রস দেন মিডফিল্ডার ইয়াসিন আলী। গোলমুখের সামনে দারুণ হেডে লক্ষ্যভেদ করেন সাগর।
খানিক পর মোহাম্মদ আলীর একক প্রচেষ্টা একটুর জন্য খুজে পায়নি জাল। প্রতি আক্রমণে বা প্রান্ত দিয়ে একাই উপরে ওঠেন সিরাজগঞ্জের এই মিডফিল্ডার। শেষ মুহূর্তে বক্সে ঢুকে গোলকিপারের ডান পাশ দিয়ে তাঁর নেওয়া নিচু শট বেরিয়ে যায় পোস্ট ঘেঁষে।
শুরু থেকে প্রতিপক্ষের বক্সের একাধিক আক্রমণ শানালেও সমতায় ফিরতে পারেনি সিরাজগঞ্জ জেলা ফুটবল দল। ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় দিনাজপুর জেলা ফুটবল দল।
৬০ মিনিটে বক্সের অনেকটা বাইরে থেকে বা পায়ের ফ্রি কিক শটে দিনাজপুরের লিড দ্বিগুণ করেন প্রদীপ সরেন।
দুই মিনিট পর উজ্জ্বল হোসেনের দারুণ গোলে ব্যবধান কমায় সিরাজগঞ্জ। বা প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে একাই বক্সে ঢুকে নিচু শটে গোলকিপার মাসুদ রানাকে পরাস্ত করেন উজ্জ্বল।
এক গোল পরিশোধের পর আরও উজ্জীবিত হয়ে ওঠে সিরাজগঞ্জ। ৬৫ মিনিটে দলটির দারুন আক্রমণ ব্যর্থ হয় মোহাম্মদ আলী বল আকাশে উড়িয়ে মারলে।
দুই মিনিট পর আরও একবার গোল মুখের সামনে প্রতিপক্ষের গোলকিপারকে পরাস্ত করতে ব্যর্থ হন সিরাজগঞ্জের ফরোয়ার্ড আলী। সমতায় ফেরার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল যমুনাপাড়ের দলটি।
যোগ করা সময়ে পেনাল্টি পায় সিরাজগঞ্জ। সফল স্পটকিকে দলকে ২-২ সমতায় ফেরান হাসান আলী। তাতে খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে শুরুতেই এগিয়ে যেতে পারত সিরাজগঞ্জ। নিজেদের ভুলে সুযোগ হাতছাড়া করে দলটি। তবে অতিরিক্ত সময়ের ১১ মিনিটে দারুণ এক ভলিতে ইয়াসিন আলী দিনাজপুরের ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
শেষ ১৫ মিনিটে একাধিক সুযোগ পায় সিরাজগঞ্জ। তবে ফিনিশিংয়ের দুর্বলতায় সুযোগকে গোলে রূপ দিতে পারেনি তারা। ২-৩ গোলের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মাহবুব আলমের দল।
ফাইনাল শেষে জয়ী দলকে দেওয়া হয় তিন লাখ টাকা। আর শিরোপাজেতা দল পায় ৫ লাখ টাকা।