
দিরাই উপজেলা গোলাম জিলানী :
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে বিশাল মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার দুপুরে দিরাই পৌর শহরের থানা রোডস্থ বিএনপি কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বিশাল এই মিছিলটি বের হয়। নেতৃত্ব দেন — সাবেক সংসদ সদস্য, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জননেতা নাছির উদ্দীন চৌধুরীর ছোট ভাই, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক।
মিছিল ও সমাবেশের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ, দুপুর গড়িয়ে বিকেলে পুরো শহরজুড়ে ছিল বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের স্লোগানে মুখর পরিবেশ।
মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক — থানার মোড়, বাজারপথ, উপজেলা রোডসহ বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ শেষে আবার দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে সমাবেশে পরিণত হয়।
সমাবেশস্থলে ছিল বিপুল জনসমাগম। হাজারো নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।
এর আগে সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নেতা-কর্মীরা ছোট-বড় মিছিল নিয়ে দলে দলে এসে জড়ো হতে থাকেন বিএনপি কার্যালয়ের সামনে।
কেউ হাতে জাতীয় পতাকা, কেউ দলীয় ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে আসেন।
‘জিয়ার সৈনিক এক হও’, ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’, ‘নাছির চৌধুরীর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ দিরাই’ — এসব স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন মঈন উদ্দিন
চৌধুরী মাসুক।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন — পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আমিরুল ইসলাম, উপজেলা যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দলের নেতৃবৃন্দসহ অনেকে।
> “জননেতা নাছির উদ্দীন চৌধুরী দিরাই-শাল্লার আপামর জনতার নেতা। তিনি কোনো ব্যক্তি বা দলের নেতা নন; জনগণের নেতা, উন্নয়নের প্রতীক
> “দিরাই-শাল্লায় নাছির উদ্দীন চৌধুরীর হাজার হাজার কর্মী রয়েছে। তার নেতৃত্বে বিএনপি আজও ঐক্যবদ্ধ। তার সাথে তুলনীয় আর কেউ নেই।”
তারা অভিযোগ করে বলেন — সাম্প্রতিক সময়ে কিছু কুচক্রী ও সুবিধাবাদী মহল পরিকল্পিতভাবে নেতা নাছির উদ্দীন চৌধুরীকে ঘিরে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
নেতার নাম ব্যবহার করে বিভেদ সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে — কিন্তু দিরাইয়ের মানুষ তাদের চিনে ফেলেছে।
> “যারা একসময় নাছির উদ্দীন চৌধুরীর বিরোধিতা করেছিল, আজ তার নাম ভাঙিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে — তাদের এই মায়াকান্না দিরাইবাসী বিশ্বাস করে না।”
> “এই কুচক্রীদের ষড়যন্ত্রের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।
বিএনপি হচ্ছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া সংগঠন। এই দলে দুর্নীতিবাজ ও সুযোগসন্ধানীদের কোনো ঠাঁই নেই।”
দিরাই শহরের সাধারণ জনগণও মিছিলটি উপভোগ করেন উৎসবের আমেজে।
অনেকে বলেন,
> “দিরাইয়ে মাসুক চৌধুরীর নেতৃত্বে এত বিশাল মিছিল অনেকদিন পর দেখা গেল।
এটি প্রমাণ করেছে — বিএনপি এখনো দিরাইয়ের মাটিতে শক্তিশালী অবস্থানে আছে।”
নেতৃবৃন্দ ৭ নভেম্বরের চেতনাকে স্মরণ করে বলেন,
> “এই দিনটি আমাদের জাতীয় জীবনের ইতিহাসে অবিস্মরণীয়।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় যেভাবে ভূমিকা রেখেছিলেন, তা চিরদিনের জন্য অনুকরণীয়।”
> “আজও সেই বিপ্লব ও সংহতির চেতনা আমাদের ঐক্যের মূলমন্ত্র।”
সমাবেশ শেষে মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক ও অন্যান্য নেতারা জনগণের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
এরপর শহরজুড়ে আবারও মিছিল বের হয় — “গণতন্ত্র মুক্তি পাক”, “জিয়ার আদর্শে ঐক্যবদ্ধ বিএনপি বাঁচবে” — এমন স্লোগানে দিরাই মুখর হয়ে ওঠে।
দিরাইয়ে বিএনপির এই বিশাল মিছিল ও সমাবেশ প্রমাণ করেছে — দলটি এখনো মাঠে সক্রিয় ও সংগঠিত।
মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুকের নেতৃত্বে দিরাইয়ের নেতা-কর্মীরা যে ঐক্য ও শক্তি প্রদর্শন করেছেন, তা বিএনপির আগামী দিনের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে — এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
দিরাই থানা রোডে মিছিলের দৃশ্য
দলীয় কার্যালয়ে সমাবেশের মুহূর্ত।নেতৃবৃন্দের বক্তব্য প্রদান
ইউনিয়ন থেকে আগত কর্মীদের অংশগ্রহণ