
নূরনবী কক্সবাজার সদর প্রতিনিধি।
কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়ন সহ কক্সবাজারবাসীর আতংক, ডজনের ও বেশি মামলার আসামী, বিএনপি-জামায়াতের অফিস ভাঙচুর, সংঘর্ষ ও ছাত্র আন্দোলনের মামলা সহ ১৩টি মামলার আসামী আ’লীগ নেতা হায়দার আলীকে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পনের সময় বিজ্ঞ বিচারকের নির্দেশক্রমে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেন।
১৩ আগস্ট (বুধবার) দুপুরে আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিজ্ঞ আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশনা প্রদান করে। তার গ্রেফতারের খবরে উপজেলা ও ইউনিয়নের মানুষের মাঝে স্বস্তির খোঁজ মিলে বলে জানান স্থানীয়রা।
খুরুশকুলের মিডওয়ে সাইন্টিফিক ফিশারীজ ও ডেইরী ফার্মের স্বত্তাধিকারী ভুক্তভোগী সালেহ আহমদ জানান, গেল ৫ই আগস্ট আ’লীগ সরকারের পতনের পর ২৫শে আগস্ট, ২০২৪ইং তারিখে হায়দার আলীর নেতৃত্বে খুরুশ নতুন ব্রীজের ঠিক উত্তর পার্শ্বে মিডওয়ে সাইন্টিফিক ফিশারীজ ও ডেইরী ফার্ম থেকে রাত আনুমানিক ২টায় খামারের কেয়ারটেকারদের বন্দুক ধরে ডাকাতির কর্মকান্ড চালায়। এসময় খামার থেকে ৫টি দেশী ও বিদেশী গরু ডাকাতি করে নিয়ে যায়। এসময় খামারে দায়িত্বরত কর্মচারীদের রশ্মি দিয়ে বেঁধে রেখে এসব কর্মকান্ড চালায়। এই বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করলেও কোন প্রকার সুরহা মিলেনি। গরু ডাকাতি ছাড়াও হায়দার আলীর নেতৃত্বে আমার মাছের ফিশারীজ সহ অসংখ্য ফিশারীজ থেকে মাছ চুরি করে নিয়ে যায়। যেহেতু তার বিরূদ্ধে ডজনেরও অধিক মামলা রয়েছে, তাই ভয়ে এলাকার জনসাধারণ তার নির্যাতনের প্রতিবাদ করেনা। এমনকি তার বিরূদ্ধে মুখ খুলতেও ভয় পায় সকলেই। তার আটকে আমরা নিরাপত্তাবোধ করছি। তাই প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ তার বিরূদ্ধে দায়েরকৃত মামলার যথোপযুক্ত শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
স্থানীয়রা আরো জানান, খুরুশকুল মনুপাড়া ৮নং ওয়ার্ডের আবু সৈয়দ (৬০) এর পুত্র হায়দার আলী(৩৭) আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন কক্সবাজারে ছাত্রআন্দোলনে প্রকাশ্যে কক্সবাজার শহর লিংক রোড থেকে শুরু করে ডলফিন মোড় পর্যন্ত জুলাই-আগস্ট এর স্মরণীয় ছাত্রদের উপর গুলিবর্ষণ করে এবং তার বিরুদ্ধেই খুরুশকুলে বিভিন্ন এলাকার ভূমিদস্যু, ডাকাতি, মার্ডার, অস্ত্র মামলা ও ছালেহ আহমেদের গরু ডাকাতি সহ মোট ১৩ টি মামলা ওয়ারেন্ট আসামি। এছাড়া ছাত্র আন্দোলনের সময় বিএনপি-জামায়াতের বিভিন্ন অফিস ভাঙচুর অগ্নিসংযোগের সাথে যুক্ত ছিল বলে মন্তব্য করেন স্থানীয়রা।