
গোলাম জিলানী স্টাফ রিপোর্টার দিরাই (সুনামগঞ্জ):
দিরাই শহরের চিত্র যেন বছরের পর বছর একই বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে আসে উন্নয়নের আশ্বাস, কিন্তু বাস্তবতায় দৃশ্যমান পরিবর্তন নেই বলেই অভিযোগ স্থানীয়দের। এর সাম্প্রতিক উদাহরণ মিলেছে ২০২৫ সালের পঞ্চম শ্রেণির বহুল প্রতীক্ষিত বৃত্তি পরীক্ষার প্রথম দিনেই।
পরীক্ষা উপলক্ষে দিরাই উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল স্বাভাবিক। তবে সেই স্বাভাবিক পরিস্থিতিই অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে নিয়ন্ত্রণহীন যানবাহন চলাচল ও প্রশাসনিক উদাসীনতায়। হাইস্কুল সড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের মধ্যেও অবৈধ ট্রলির বেপরোয়া চলাচল চোখে পড়ে। ইট-বালুবাহী এসব ট্রলি বিকট শব্দে সড়ক দখল করে চলাচল করায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
ফলে পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থীদের বহনকারী রিকশা, ইজিবাইক ও সিএনজি দীর্ঘ সময় আটকে থাকে। অনেক শিক্ষার্থীকে বাধ্য হয়ে হেঁটে পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে দেখা যায়, যা অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে—কর্তৃপক্ষ কি আগে থেকে এমন পরিস্থিতির আশঙ্কা করতে ব্যর্থ হয়েছিল, নাকি জেনেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি? শহরের সড়কে ট্রলি চলাচলের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিনের। কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার দিনেও যদি এ নিয়ম লঙ্ঘন অব্যাহত থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
স্থানীয়রা জানান, ট্রাফিক বিভাগ, পৌর কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষা বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব ছিল। সামান্যসংখ্যক ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ কর্মী মোতায়েন করলেই যানজট কমানো যেত বলেও মত তাদের।
এদিকে, অদক্ষ ও বেপরোয়া ট্রলি চালকদের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। এছাড়া ট্রলির বিকট শব্দে পরীক্ষা কেন্দ্রের পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়াও উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। জনদুর্ভোগ নিরসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্ব হলেও গুরুত্বপূর্ণ দিনেও কার্যকর তদারকির অভাব লক্ষ্য করা গেছে।
উল্লেখ্য, অচিরেই শুরু হতে যাচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা—যা আরও বড় পরিসরের একটি জাতীয় পরীক্ষা। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে একই ধরনের বিশৃঙ্খলা আরও বড় আকারে দেখা দিতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয়রা—পরীক্ষা কেন্দ্রসংলগ্ন সড়কে ভারী ও অবৈধ যানবাহন চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ, নির্ধারিত সময়সীমা কার্যকর এবং দৃশ্যমান ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এ ধরনের অব্যবস্থাপনা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও জননিরাপত্তা—উভয়ের জন্যই বড় হুমকি হয়ে